Skip to main content

Posts

Showing posts with the label খাইখাই

ল্যাদকথন: একটি শনিবাসরীয় চলভাষালাপ

[সময়কাল ও স্থান: অপ্রাসঙ্গিক। ল্যাদ স্থানকালাতীত।]  আমি: হ্যাঁ বলো। মা: কী করছিস? আমি এই একটু দুধচা করলাম, চিনিছাড়া। [স্লা......র্প]  (রোজ এইভাবেই কথোপকথন শুরু হয়)  আমি: এই একটু লেবুচা আর ল্যাদ খাচ্ছি। মা: অ্যাঁ! কী খাচ্ছিস? আমি: ল্যাদ, ল্যাদ।  মা: (কীরকম একটা দ্বিধান্বিত গলায়) বুঝতে পারছিনা। (ঘাড় ঘুরিয়ে বাবাকে) টিভিটা কমাও না! সারাদিন চ্যানেল ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে খবর দেখেই যাচ্ছে! তুমুন একটা নতুন খাবারের নাম বলল, ঠিক করে শুনতেই পেলাম না।  আমি: !!!!!!! মা: (এবার আমার দিকে ফিরে) হ্যাঁ বল।  আমি:  নতুন খাবার আবার কী? বললাম তো ল্যাদ।  মা: ও! আমেরিকান খাবার?  আমি: উফফ এতে আমেরিকান কোত্থেকে এল? আশ্চর্য্য! ল্যাদ জানো না? মা: (খচে গিয়ে) তোরা আজকাল কী খাস কী বলিস আমি বুঝতে পারি না। বিদেশী খাবারের নাম আমি কীকরে জানব?  আমি: বারবার বলছি এটা খাবার না। ল্যাদ। বুঝেছো? লয়ে যফলা আকার - ল্যাদ।  মা: (ভুরু কুঁচকে) মানে? আমি: ল্যাদ মানে ল্যাদ। এইটা না বোঝার কী আছে?  মা: (ভীষণ কাঁইমাই করে) ধুর আমি বুঝতে পারছি না। আমি কি অ...

আলু-থালু

মেয়েটিকে একলা দেখে প্রৌঢ়া সহযাত্রিণী শুধোলেন, তাঁদের পরিবারের সঙ্গে রাতের খাবার ভাগ করে খেতে তার কোনো আপত্তি আছে কীনা। বাড়ী থেকে বানিয়ে আনা গরম খাবার, একেবারেই সাদামাটা; তবে সঙ্গে বাচ্চা ও বয়স্ক মানুষ আছে- তারা প্যান্ট্রির হাবিজাবি খেতে পারেনা। আর স্টেশনে দাঁড়ালেই খুচরো ভাজাভুজি মুখরোচক যা বিক্রি করতে আসে তার গুণমান তো কহতব্য নয়। একা মানুষের অবশ্য রান্না করে আনা ভারী ঝক্কি।    এর আগে মেয়েটিকে নিয়ে একপ্রস্থ আলোচনা হয়েছে ট্রেনের কুপে। ঢলঢলে টিশার্ট আর অনেকগুলো পকেটওয়ালা প্যান্ট, উবুঝুঁটি, মশমশে কেডস, ঢাউস ব্যাগপত্তর, তার ওপর এই দেড়দিনের দীর্ঘ যাত্রায় সঙ্গীহীন - এমন অসৈরণ ব্যাপার তাঁদের ছেলেবেলায় দেখা যেত না। আধুনিক না ছাই! ভয়ডর নেই মনে - সংস্কারের ঘটশ্রাদ্ধ করে ছেড়েছে। আর খাবারেরও বলিহারি - কীসব বার্গার-চিপ্স-আলুভাজা হ্যানাত্যানা! এইজন্যই অমন ঘাড়েগর্দানে একাকার। মেয়েমানুষ নয় একটু ভারী চেহারা হওয়া ভালো, তা বলে এতটা! মেয়েটি হেডফোনের আড়াল থেকে গুঞ্জনের আভাস পেয়েছে, আর করুণায় হেসেছে। সনাতনী আর সেকেলের মধ্যেকার কয়েক যোজন দূরত্ব যারা দেখতে পায়নি, তাদের অভিধ...

ডাল-পালা

ডাল, আমবাঙালীর জীবনের অনিবার্য অংশ। যখন নিজেকেই সময় দেবার অবসর হয় না, সেইসব অতিব্যস্ত দিন থেকে শুরু করে ছুটির মেজাজে বিশেষ কোনো উদযাপন, সর্বত্র রূপে-গন্ধে-স্বাদে ইন্দ্রিয়সুখের ডালি নিয়ে তারা হাজির। সেইসব  জড়ো করে এ অধম বুভুক্ষুর  দু-চারটি প্রলাপ।    সোনামুগডাল । বর্ষামুখর রাতে খিচুড়ির উপকরণ হিসাবে যার কদর কেবল অর্ধাঙ্গিনীর। তার আসল রূপ খোলে বিয়েবাড়ীর মধ্যাহ্নভোজে মুড়িঘন্টের ডালে। সঙ্গে জুঁইফুল ভাত। অনেকদিনের অসুস্থতার পর ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়লে যেমন ঝরঝরে লাগে, তেমনি মুক্তকচ্ছ ধবল ভাত- যত্ন করে যা আঙুলে মেখে নেওয়া যায়। সন্ধ্যেবেলার চর্ব্যচোষ্যের আতিশয্যের মুখড়ায় এ একান্তই আত্মীয়তার আন্তরিক উদযাপন। অবশ্য অহিংস জনগোষ্ঠীর জন্য ফুলকপি-আলু-কড়াইশুঁটির সুযোগ্য বিকল্প থাকে। সকলের সঙ্গে পাত পেড়ে বসে খাবার যে ভরপেট আনন্দ, তা ছাড়া বোধহয় এই ডালের নবাবী স্বাদের ন্যায্য মূল্যায়ন হয় না।    নিজামতের কথা যখন উঠল, ছোলার ডালের কথা না বললেই নয়। নারকোলের ফিনফিনে টুকরো আর অর্ধচন্দ্রাকৃতি কাজুবাদামের বনেদিয়ানায় সে এক রাশভারী নৈবেদ...

হেমন্তিকার চিঠি

শীত এসে গ্যালো। ক্রান্তীয় সমতলভূমির গৃহস্থের কাছে যা মূলত একটি ধারণামাত্র। গনগনে আগুনের আঁচ বাঁচিয়ে আলোটুকু উপভোগ করার আয়েসে যতখানি বিচক্ষণতা ও পিছুটান থাকে।   ভোরের আলো ফুটবার আগেই হাড়কাঁপানো উত্তুরে হাওয়ার শাসন তুচ্ছ করে মাতৃময়ী খেজুরগাছের কোল থেকে ছিনিয়ে আনা হবে অমৃতধারা। সুরাপ্রতিম বনেদি পানীয়। বিশালাকার লোহার কড়াইতে জ্বাল দিয়ে তার লাস্যময় তারল্যে যোগ হবে সান্দ্রতার আভিজাত্য, প্রস্তুত হবে পাটালিগুড়। যা নবান্নের ধান্যজাত চিঁড়ে-মুড়ি-খৈ এর মোয়ার এক ও অদ্বিতীয় সংযোজী উপাদান। এবং দুগ্ধজ মিষ্টান্নের সমাদৃত অলংকার। মুড়কি আর জয়নগরের ধাত্রীমাও বটে। মহানাগরিক এইসব স্বর্গসুখ থেকে অনেকাংশে  বঞ্চিত। তারা বালাপোষের আড়মোড়া মেখে  কেবল ঋতু উদযাপনের স্বার্থে চিনিদুধে সম্পৃক্ত বাজারচলতি কফির আস্বাদ নিয়ে 'শীতের সকাল' রচনা লিখতে শিখেছে।          ঝকঝকে রোদ উঠলে অবশ্য সবেতেই নিশ্চিন্তির মফস্বলী ছায়া নেমে আসে। দুপুরের আলসে রোদ্দুরে দার্জিলিং ও নাগপুরী কমলালেবুর স্বাদ এবং রূপটানে খোসার উপযোগিতা নি...

(অ)দরকারী

অভাব, অভাব আর অভাব। এখানে কচুর লতি পাওয়া যায় না, মেটে আলু পাওয়া যায় না, বিচেকলা পাওয়া যায় না, শীষপালং পাওয়া যায় না। অভাবের দেশে যা অপ্রতুল, আন্তর্জাতীয় সমারোহে তা দুষ্প্রাপ্য, বিপন্ন।  যেখানে পুকুরপাড় থেকে তুলে আনা কলমীশাকের সাহচর্যে লবণাক্ত ফেনাভাতের অমৃতসমান তৃপ্তি, বা খুচরো ভাজাভুজির সঙ্গতে ছাঁচিপেঁয়াজ আর পান্তাভাতের প্রশান্তি, নিদেনপক্ষে বাজরার ধোঁয়া ওঠা চাপাটির সাথে খেজুর কিংবা আখের গুড় - সেইসব বসুন্ধরা কোথায় ? এখানে যা সহজলভ্য, তা হলো একই সব্জীর বিবিধ প্রকার। এমনকি আলু-শসা-টমেটোর মত নিরীহ জিনিসপত্রেরও। আবার কীটনাশক বিহীন (organic) হলে তার অতিরিক্ত (ক)দর। তাদের চেহারা দেখে আলাদা করা, আর বাজারের শেষ অবধি লেবেলে সাঁটা দুর্বোধ্য নাম মনে রাখা ছোটদের পত্রিকার 'অমিল খোঁজো তফাৎ বোঝো'র চেয়ে ঢের মুশকিলের। স্বোপার্জিত অর্থ - সুতরাং দায়বদ্ধতার ঘোরপ্যাঁচ নেই - সবরকমই একবার করে ঘুরিয়েফিরিয়ে পরখ করা হল। নিজের ঘ্রাণশক্তি বা স্বাদকোরকের সংবেদনশীলতা নিয়ে আমার সংশয় নেই; তাই চেখে দেখতেই বোঝা গেল ...

পাক-ই-স্তান

এক চান্দ্রমাস হয়ে এলো প্রায়। পশ্চিম গোলার্ধের জলহাওয়া, গাছপালা, ঘরবাড়ী, লোকজন সবই মোটামুটি ধাতস্থ হয়ে এসেছে। নতুন যাপন, অপরিচিত সাংস্কৃতিক ধরণধারণ। যদিও আমাদের প্রজন্মে বিশ্বায়নের দাপটে কোনো কিছুই তেমন অপ্রত্যাশিত নয় আর। মূল ফারাক এই যে এখানে সব কিছু বড় বেশী মসৃণ, স্বচ্ছন্দ, পরিমিত। অনধিকার চর্চার বদভ্যেস কারো নেই, তেমনি পাড়াসুলভ এমনকি হাউজিং কমপ্লেক্সসুলভ আত্মীয়তাও আশা করে না কেউ। সম্ভবত রন্ধনপ্রণালী, পরিবেশন আর খাদ্যাভ্যাসে এর একটা বিচিত্র প্রতিফলন খেয়াল করা যায়। একেই যুক্তরাষ্ট্রের স্বতন্ত্র খাবারদাবার বলতে আদৌ কিছু আছে কিনা তা তর্কসাপেক্ষ। তার ওপর বহু পরিচিত বিদেশী খাবারই ভারতীয়করণের পর যে আদল নিয়েছে তা নিঃসন্দেহে এখানকার চেয়ে স্বাদে ও রূপে ভিন্ন। বহুজাতিক রসনার সাথে সামঞ্জস্য রাখতে গিয়ে এখানে কোথাও, সে রেস্তোরাঁ, পিকনিক বা পার্টি যাই হোক রেঁধেবেড়ে সাজিয়েগুছিয়ে খেতে দেবার প্রথা খুব একটা নেই -  সমস্ত সম্ভাব্য উপকরণ যে যার জায়গায় স্তূপীকৃত হয়ে থাকে, আন্দাজ বা পছন্দমত মিলিয়েমিশিয়ে নিলেই হল। তার না আছে ক্রমানুসার,...